কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :১২ জানুয়ারি ২০২৬
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা রোডে শনিবার রাতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী –কে হেনস্থার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার না করায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরাই শুভেন্দুর কনভয় আটকে হেনস্থা করেন এবং বিষয়টি ছিল পরিকল্পিত। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ১৩ জানুয়ারি চন্দ্রকোণা রোডে বৃহত্তর প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু নিজেই।
শনিবার রাতে পুরুলিয়া থেকে দলীয় কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে রাত প্রায় আটটা নাগাদ চন্দ্রকোণা রোড এলাকায় শুভেন্দুর কনভয় আটকে যায় বলে বিজেপির দাবি। অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরা তাঁকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি ও হেনস্থা করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে শুভেন্দু সরাসরি গড়বেতা থানার অধীন চন্দ্রকোণা রোড পুলিশ বিট হাউসে পৌঁছে যান। সেখানেই ফাঁড়ি ইনচার্জের ঘরের মেঝেতে বসে পড়ে দীর্ঘ প্রায় ছ’ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভ চালান তিনি।
বিজেপির তরফে ওই রাতেই অন্তত ১০ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। রাত প্রায় দু’টো নাগাদ অবস্থান তুলে নিয়ে শুভেন্দু দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মশাল হাতে মিছিল করেন ঘটনাস্থল পর্যন্ত। তাঁর বক্তব্য, “বিরোধী দলনেতার নিরাপত্তা যদি না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় বিজেপি ও তৃণমূল—উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পলাশ চন্দ্র ঢালি বলেন, “দুই পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারও দোষ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার রাতেই কাঁথি থানায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কাঁথির বিজেপি বিধায়ক অরূপ দাস, বিজেপি নেতা ধীরেন পাত্র প্রমুখ। রবিবার সকাল থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জুড়ে বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। মেদিনীপুরের ধর্মা এলাকায় রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ হয়। দাসপুর, ঘাটাল-সহ একাধিক এলাকায় রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিজেপি।
ঘাটাল ব্লকের সুলতানপুরে ঘাটাল–আরামবাগ রাজ্য সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন ঘাটাল বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। দাসপুরের হরিরামপুরে ঘাটাল–মেদিনীপুর রাজ্য সড়ক অবরোধের জেরে যানজট তৈরি হয়। ঝাড়গ্রামের গিধনি বাজারে পড়িহাটি–চিচিড়া রাস্তা, গোপীবল্লভপুরে ফেক–নয়াগ্রাম রাস্তা এবং বিনপুরে ঝাড়গ্রাম–বাঁকুড়া রাস্তা অবরোধ করা হয়। ঝাড়গ্রাম শহরের রাজ কলেজ মোড় এলাকায় প্রতিবাদ মিছিলও হয়।
বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, “রাজ্যের বিরোধী দলনেতাই যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা কোথায়?” অন্যদিকে তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি Sujay Hazra পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী নাটক করেই রাজনীতি করছেন। বিজেপি রাজনৈতিক ভাবে ব্যর্থ বলেই মিথ্যে অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।”
সব মিলিয়ে চন্দ্রকোণা রোডের এই ঘটনাকে ঘিরে শাসক ও বিরোধীর সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন নজর—তদন্তের অগ্রগতি এবং ১৩ জানুয়ারির প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।




