কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :১৩ জানুয়ারি ২০২৬
বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করার ডাক দিয়ে দলের যুব কর্মীদের সামনে আগামী ১০০ দিনের স্পষ্ট ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তুলে ধরলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। কলকাতায় আয়োজিত ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কনক্লেভে উপস্থিত হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানালেন—
“আমরা মিথ্যেবাদী পার্টি নই। বিজেপিকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়া হবে না।”
সভায় অভিষেকের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি ও লড়াইয়ের দর্শন। তাঁর কথায়, বিজেপির হাতে ইডি, সিবিআই, নির্বাচন কমিশন, অর্থবল কিংবা প্যারামিলিটারি বাহিনী থাকতে পারে, কিন্তু তৃণমূলের আসল শক্তি মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকা কর্মীরা।
তিনি বলেন, Bharatiya Janata Party রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু All India Trinamool Congress-এর শক্তি মাঠে, রাস্তায় ও ডিজিটাল দুনিয়ায় থাকা যোদ্ধারা।
আগামী সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে অভিষেক জানান, এই ১০০ দিনে কোনও ভাবেই রাজনৈতিক জমি হাতছাড়া করা চলবে না।
তাঁর নির্দেশ—
-
প্রথম পাঁচ দিন কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় লড়াই চলবে, তার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা থাকতে হবে
-
পরের পাঁচ দিনের জন্য নতুন স্ট্র্যাটেজি
-
এই ভাবেই ধাপে ধাপে গোটা ১০০ দিনের কর্মসূচি সাজাতে হবে
ফেসবুক, এক্স (টুইটার) ও ইনস্টাগ্রামে দলের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দেন, “মিথ্যেকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা বানিয়ে রাজনীতি করা আমাদের আদর্শ নয়। বিজেপির কোনও দাবি এলেই আগে যাচাই, তারপর প্রকৃত তথ্য মানুষের সামনে আনতে হবে।”
সভায় ফের কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি,
-
বাংলার ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য আলাদা করে প্রায় ৬৮০ কোটি টাকা
-
এবং রাজ্যের প্রতিটি বুথের জন্য গড়ে ২.৫ কোটি টাকা আটকে রেখেছে বিজেপি
২০১৯ থেকে ২০২৬—এই সাত বছরে বিজেপি নেতাদের ‘টাকা আটকে রাখার হুমকি’ সাধারণ মানুষের কাছে আরও জোর দিয়ে তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি।
অভিষেকের বক্তব্য, সিপিএম যেমন একটাই মিথ্যে বারবার বলত, বিজেপিও আজ সেই পথেই হাঁটছে। তবে দেশের রাজনীতিতে একমাত্র তৃণমূলই বিজেপিকে বারবার পরাস্ত করেছে বলে দাবি তাঁর।
সভা শেষে দলের সংগঠন কাঠামোকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তুলনা করে অভিষেক বলেন—
-
বুথ স্তরে কাজ করা কর্মীরা দলের আসল সম্পদ
-
মিছিল, ব্যানার-ফেস্টুনের দায়িত্বে যাঁরা, তাঁরা দলের আর্মি
-
সোশ্যাল মিডিয়ায় লড়াই করা কর্মীরা, তাঁরা দলের এয়ার ফোর্স
-
আর সংসদ ও বিধানসভায় প্রতিনিধিরা, তাঁরা দলের নৌবাহিনী (নেভি)
এই সমন্বিত শক্তিতেই বিজেপির বিরুদ্ধে আগামী লড়াই জেতা সম্ভব—এমনই বার্তা দিয়ে সভা শেষ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।




