কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :১৩ জানুয়ারি ২০২৬
জার্মানিতে ভারতীয়দের ভিসা-ফ্রি ট্রানজ়িট, বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা—১৯টি মউ-এ শক্ত হল কৌশলগত সম্পর্ক !
ভারত–জার্মানি সম্পর্কের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হল সোমবার। দু’দিনের সফরে ভারতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন জার্মান চান্সেলার ফ্রেডরিখ মার্জ। বৈঠক শেষে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও বাণিজ্য-সহ প্রায় ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত—ভারতীয় নাগরিকদের জন্য জার্মানিতে ভিসা-ফ্রি ট্রানজ়িটের সুবিধা।
এই সিদ্ধান্ত কেবল কূটনৈতিক সাফল্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও বড় স্বস্তির খবর। সূত্রের খবর, ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি অবস্থানের ক্ষেত্রে ভারতীয়দের আর আলাদা করে ভিসার প্রয়োজন হবে না। ইউরোপে যাতায়াতের সময় ট্রানজ়িটে বার্লিন, ফ্র্যাঙ্কফুর্ট বা মিউনিখ—এই শহরগুলি ব্যবহার করা ভারতীয় যাত্রীদের জন্য অনেকটাই সহজ হবে। বাণিজ্যিক প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক কিংবা সাধারণ পর্যটক—সবার ক্ষেত্রেই এই সুবিধা মানবিক যোগাযোগ বাড়াবে বলে মত কূটনৈতিক মহলের।
গান্ধীনগরে হওয়া এই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ক্রয়, যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি আদানপ্রদানের দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারত–জার্মানি প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত মিলেছে।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির ব্যবহার, সবুজ হাইড্রোজেন এবং সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদন—এই তিনটি ক্ষেত্রেই যৌথ উদ্যোগের রূপরেখা তৈরি হয়েছে। জার্মান প্রযুক্তি ও ভারতীয় বাজার—এই মেলবন্ধন ভবিষ্যতের শিল্পনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিক্ষাক্ষেত্রেও সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। জার্মানিতে ভারতীয় পড়ুয়ার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। যৌথ ও দ্বৈত ডিগ্রি প্রোগ্রাম সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজ বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, ভারতীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভিসায় জার্মানিতে কাজের সুযোগ—এই ঘোষণাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। জার্মানি যেহেতু ইইউ-এর অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য, তাই মোদী–মার্জ বৈঠকের পর এই আলোচনা নতুন গতি পেতে পারে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
সব মিলিয়ে, এই সফর কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং দুই দেশের মানুষের জীবনে বাস্তব প্রভাব ফেলতে চলেছে এমন একাধিক সিদ্ধান্তের সূচনা। দিল্লি–বার্লিন সম্পর্ক যে ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় ও বহুমাত্রিক হবে, তারই ইঙ্গিত মিলল এই বৈঠকে।




