spot_img
28 C
Kolkata
Monday, February 16, 2026
spot_img

নাইজার নদীতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: উত্তর মালিতে ফেরি ডুবে মৃত অন্তত ৩৮, শোকে স্তব্ধ টিম্বুক্তু অঞ্চল

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  : কলকাতা :১৪ জানুয়ারি ২০২৬

ত্তর আফ্রিকার দেশ Mali-র উত্তরাঞ্চলে মর্মান্তিক ফেরি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ৩৮ জন। স্থানীয় প্রশাসন ও মৃতদের স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, টিম্বুক্তু অঞ্চলের Timbuktu region-এর Diré শহরের কাছে নাইজার নদীতে গত বৃহস্পতিবার এই দুর্ঘটনা ঘটে। নদীর তীরে ভিড়তে গিয়ে পাথরে ধাক্কা খেয়ে ফেরিটি উল্টে যায় ও ডুবে যায় বলে জানা গিয়েছে। বেঁচে ফিরেছেন অন্তত ২৩ জন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাক্তন সাংসদ আলকাইদি তুরে জানান, “এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা অস্বাভাবিক ভাবে বেশি। বহু মহিলা ও শিশু জলে তলিয়ে গিয়েছেন। গোটা টিম্বুক্তু অঞ্চল আজ শোকস্তব্ধ।”

সূত্রের খবর, ধান কাটার কাজ সেরে পরিবার ও কৃষকদের নিয়ে ফেরিটি রাতে শহরে ফিরছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে সূর্যাস্তের পর নৌযান ভেড়ানো নিষিদ্ধ—জিহাদি হামলা ঠেকাতে এই নিয়ম জারি। কিন্তু নৌচালক ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে বিকল্প পথে তীরে ভেড়ার চেষ্টা করেন। সেই সময়ই নদীর অগভীর অংশে পাথরে ধাক্কা খেয়ে নৌযানটি ডুবে যায়।

নাইজার নদীতে ফেরি দুর্ঘটনা নতুন নয়, তবে স্থানীয়দের দাবি—এবারের প্রাণহানি ব্যতিক্রমীভাবে বেশি। নদীপথে যাতায়াতই বহু গ্রামের একমাত্র ভরসা হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই মানুষ চলাচল করেন।

দিরের এক বাসিন্দা মুসা আগ আলমুবারেক ত্রাওরে জানান, তিনি এই দুর্ঘটনায় ২১ জন আত্মীয়কে হারিয়েছেন। প্রশাসনের সঙ্গে মিলিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার ও গণনায়ও তিনি সাহায্য করেছেন। তাঁর কণ্ঠে অসহায়তা, “নদীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দেহগুলো তুলেছি। কিছু দেহ পচতে শুরু করেছিল। এখনও গন্ধ লেগে আছে।”

২৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার মালিতে দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র জিহাদি গোষ্ঠীর সক্রিয়তা রয়েছে। টিম্বুক্তু অঞ্চলে আল-কায়েদা ঘনিষ্ঠ Jama’at Nusrat al-Islam wal-Muslimin-এর উপস্থিতির কথা প্রশাসন স্বীকার করেছে। এই বাস্তবতায় রাতের নৌযান নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, জীবিকার তাগিদে নিয়ম ভাঙার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে—যার ফল ভয়াবহ।

এখনও সরকারি ভাবে চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা প্রকাশ হয়নি। তদন্ত শুরু হয়েছে—নৌযানের নিরাপত্তা, চালকের সিদ্ধান্ত ও নিয়মভঙ্গের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাস, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সহায়তা দেওয়া হবে।

টিম্বুক্তু অঞ্চলের আকাশ ভারী—নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে বেড়াচ্ছে কান্না, আর প্রশ্ন: জীবিকার পথে চলতে গিয়ে আর কত প্রাণ ঝরবে?

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks