কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :১৪ জানুয়ারি ২০২৬
ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি আনতে মঙ্গলবার ফোনে কথা বললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী S. Jaishankar এবং মার্কিন বিদেশসচিব Marco Rubio। এই কথোপকথনে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (critical minerals), পরমাণু শক্তি এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ফোনালাপের পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জয়শঙ্কর জানান, এটি একটি “ভাল ও গঠনমূলক আলোচনা” ছিল। তাঁর কথায়, “বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পরমাণু সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা ও শক্তি—এই সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।”

মার্কিন বিদেশ দফতরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই আলোচনায় দুই দেশ চলমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (Bilateral Trade Agreement) নিয়ে মতবিনিময় করেছে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে রুবিও ভারত সরকারকে SHANTI বিল পাশ করায় অভিনন্দন জানান, যা ভারতের পরমাণু শক্তির টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন বিদেশ দফতরের মতে, এই বিলের মাধ্যমে ভারত-আমেরিকার অসামরিক পরমাণু সহযোগিতা আরও গভীর হতে পারে এবং আমেরিকান সংস্থাগুলির জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়। দুই পক্ষই ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ অঞ্চলের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।
এই ফোনালাপটি এমন এক সময়ে হল, যখন সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত Sergio Gor ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভারত-আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত যোগাযোগ শীঘ্রই আরও ঘন ঘন হবে। গোরের কথায়, “আমেরিকার কাছে ভারতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আর কেউ নেই।”
প্রসঙ্গত, গত বছর থেকেই দুই দেশ সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রশাসনের আমলে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ, এবং ভারতের দুগ্ধ ও কৃষিখাত খোলার প্রশ্নে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা বারবার আটকে যায়।
এই আলোচনার দিনই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। যদিও ভারতীয় সরকারি সূত্রের দাবি, এতে ভারতের উপর প্রভাব “খুবই সীমিত” হবে। কারণ বর্তমানে ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারেরও কম—যা ভারতের মোট বাণিজ্যের মাত্র ০.১৫ শতাংশ।
সব মিলিয়ে, জয়শঙ্কর-রুবিও ফোনালাপকে কূটনৈতিক মহল দেখছে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে। বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা—বহু ক্ষেত্রেই যে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে, তারই ইঙ্গিত মিলল এই সংলাপে।




