কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :১৪ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্বজুড়ে ফের বড়সড় প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের মুখে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X (পূর্বতন টুইটার)। মঙ্গলবার আচমকাই পরিষেবা বিভ্রাট শুরু হয়, যার জেরে ব্রিটেন, আমেরিকা ও কানাডা-সহ একাধিক দেশে হাজার হাজার ব্যবহারকারী লগ-ইন করতে বা পোস্ট দেখতে সমস্যায় পড়েন। বহু ক্ষেত্রেই অ্যাপ খুললেও টাইমলাইন লোড হচ্ছিল না, আবার কোথাও সরাসরি ‘এরর’ বার্তা ভেসে ওঠে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবহারকারীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ জানাতে শুরু করেন। কেউ পোস্ট করতে পারছিলেন না, কেউ আবার পুরনো পোস্ট দেখতে পাচ্ছিলেন না। বহু ব্যবহারকারী জানান, মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব—দু’ক্ষেত্রেই একই রকম সমস্যা দেখা দিয়েছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই বিভ্রাটে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় প্ল্যাটফর্মটির স্বাভাবিক ব্যবহার।
ডাউনডিটেক্টরের মতো বিভিন্ন ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী,
-
যুক্তরাজ্যে কয়েক হাজার ব্যবহারকারী একসঙ্গে সমস্যার কথা জানান
-
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ব্যাপক হারে লগ-ইন ও ফিড রিফ্রেশ সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠে
-
ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু দেশ থেকেও বিচ্ছিন্নভাবে বিভ্রাটের খবর আসে
যদিও সংস্থার তরফে তাৎক্ষণিক ভাবে এই বিভ্রাটের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই পরিষেবা বিপর্যয়ের মাত্র দু’দিন আগেই Elon Musk, যিনি X-এর মালিক, একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই প্ল্যাটফর্মটির নিউজ ফিড ও বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত অ্যালগরিদমের কোড ‘ওপেন সোর্স’ করা হবে।
মাস্কের বক্তব্য ছিল,“আমরা চাই ব্যবহারকারীরা জানুক, কোন পোস্ট কীভাবে ও কেন তাঁদের সামনে আসছে। নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়ানোই লক্ষ্য।”
এই ঘোষণার পরেই বিভ্রাট হওয়ায় প্রযুক্তি মহলের একাংশের প্রশ্ন—
এই বিপর্যয় কি শুধুই প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি অ্যালগরিদম সংক্রান্ত পরিবর্তনের প্রস্তুতির কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া?
অনেক ব্যবহারকারী ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, কাজের সময় হঠাৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সাংবাদিক, ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সংবাদমাধ্যমের একাংশের কাছেও X একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম—ফলে এই বিভ্রাট তাঁদের কাজেও প্রভাব ফেলে।
ঘটনার সময় পর্যন্ত সংস্থার তরফে কোনও বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এ ধরনের বিভ্রাট সাধারণত সার্ভার বা অভ্যন্তরীণ সিস্টেম আপডেট সংক্রান্ত সমস্যার জেরে ঘটে থাকে। পরিষেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও, পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে কিছুটা সময় লেগেছে।




