কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :১৫ জানুয়ারি ২০২৬
দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন ইঙ্গিত। আকাশযুদ্ধ ও নজরদারি ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, Bangladesh Air Force তুরস্কের কাছ থেকে অত্যাধুনিক T129 ATAK আক্রমণকারী হেলিকপ্টার ও ANKA ড্রোন কেনার জন্য আলোচনা জোরদার করেছে।
ঢাকার সঙ্গে Turkish Aerospace Industries (TAI)-এর এই প্রতিরক্ষা আলোচনা দুই দেশের সামরিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
বুধবার সকালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দফতরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন TAI-এর কর্পোরেট মার্কেটিং ও কমিউনিকেশন প্রধান বারতান কুর্ট এবং ঢাকায় তুরস্ক দূতাবাসের সামরিক অ্যাটাশে কর্নেল হিমি বারিস ইলদিজ।
প্রায় ৪৫ মিনিটের এই বৈঠকে মূলত—
-
আটটি T129 ATAK আক্রমণকারী হেলিকপ্টার কেনা
-
ANKA সিরিজের মাঝারি উচ্চতার দীর্ঘস্থায়ী (MALE) ড্রোন সংগ্রহ
এই দুই বিষয়েই আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে।
গত ১৩ জানুয়ারি তুরস্ক থেকে একটি বড় প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসে। সেই দলে ছিলেন—
-
TAI ফ্লাইট টেস্ট ডিরেক্টর আরিফ আতেস
-
ANKA UAV প্রকল্পের ম্যানেজার নূর মুহাম্মদ আকবুলুত
-
T129 ATAK প্রকল্পের ম্যানেজার মুস্তাফা আইকুত সারাচ
তাঁরা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করছেন। ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা হয়েছে।
ANKA ড্রোনগুলি মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ওড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন (MALE UAV)। এগুলি—
-
নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ
-
সীমান্ত পাহারা
-
প্রয়োজনে আকাশ থেকে আঘাত হানার কাজে ব্যবহৃত হয়
উন্নত সংস্করণ Anka-S স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন ও রাডার ব্যবস্থায় সজ্জিত। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আকাশে থাকতে সক্ষম এই ড্রোন স্থল ও নৌ—দু’ধরনের অভিযানে ব্যবহারের উপযোগী।
T129 ATAK হেলিকপ্টারগুলি মূলত দুর্গম ও কঠিন পরিবেশে যুদ্ধের জন্য তৈরি। এই হেলিকপ্টারের বৈশিষ্ট্য—
-
উচ্চ তাপমাত্রা ও পাহাড়ি এলাকায় কার্যক্ষমতা
-
দিন ও রাত—দু’সময়েই অপারেশন চালানোর সক্ষমতা
-
অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ও ২০ মিমি কামান বহনের ক্ষমতা
এই হেলিকপ্টার তুরস্কের সেনাবাহিনীতে ইতিমধ্যেই পরীক্ষিত প্ল্যাটফর্ম।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—
-
বাংলাদেশ তার আকাশ প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছে
-
একই সঙ্গে তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে চাইছে
সূত্রের দাবি, আগামী কয়েক মাসে এই চুক্তি বাস্তব রূপ পেতে পারে।




