কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে ক্রমশ অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বড়সড় সতর্কবার্তা জারি করল ভারত সরকার। বুধবার নয়াদিল্লির তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে Iran–এ অবস্থানরত সব ভারতীয় নাগরিককে ‘যে কোনও উপলব্ধ উপায়ে’ দ্রুত দেশ ছাড়তে হবে। একই সঙ্গে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয়দের ইরানে ভ্রমণ এড়িয়ে চলারও কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, চলমান সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ ও তার জেরে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই আবহে ভারতীয় ছাত্রছাত্রী, তীর্থযাত্রী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের নিরাপত্তাই এখন প্রধান উদ্বেগ।
তেহরানে অবস্থিত Indian Embassy in Iran–এর তরফে জারি করা সর্বশেষ অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়েছে,
“বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ইরানে থাকা সব ভারতীয় নাগরিককে বাণিজ্যিক বিমান-সহ যে কোনও উপলব্ধ পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত ইরান ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে—
-
বিক্ষোভ বা জমায়েতের এলাকা এড়িয়ে চলতে
-
দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে
-
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের আপডেট নজরে রাখতে
PIO বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশিকা কার্যকর।
গত মাসের শেষদিকে রাজধানী তেহরানে শুরু হয় প্রতিবাদ। কারণ—ইরানের মুদ্রা রিয়াল রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমে যাওয়া। প্রথমে অর্থনৈতিক দুর্দশার প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হলেও, দ্রুতই সেই আন্দোলন রূপ নেয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে। বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ।
মার্কিন মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি অনুযায়ী, দেশজুড়ে চলা এই আন্দোলনে এখনও পর্যন্ত ২,৫০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১২ জন শিশু, যারা বিক্ষোভে অংশও নেয়নি বলে দাবি। আটক হয়েছেন প্রায় ১৮,১০০ জন।
এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের উপর ‘নৃশংস দমন’ হলে তার জবাব দেওয়া হবে। এমনকি সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ট্রাম্পের বার্তা— “Help is on the way.”
যদিও ইরান সরকার আন্তর্জাতিক ফোন পরিষেবায় কিছু ছাড় দিয়েছে, তবু ইন্টারনেট পরিষেবার উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি বাইরের দুনিয়ার কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট হচ্ছে না।
এ দিকে বুধবার তেহরানে একযোগে ১০০-র বেশি নিরাপত্তাকর্মীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন, হাতে ছিল ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতাকা।
ইরান সরকার দাবি করেছে, ‘দাঙ্গাবাজদের’ হামলায় নিরাপত্তাকর্মীরা নিহত হয়েছেন। অন্য দিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনের নামে ব্যাপক বলপ্রয়োগেই এত প্রাণহানি।
ইরানে পরিস্থিতি যে দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার নয়, তা স্পষ্ট। সেই কারণেই ঝুঁকি না নিয়ে ভারত সরকার আগাম সতর্কতা জারি করেছে। বিদেশে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া সিদ্ধান্ত—এমনটাই মত কূটনৈতিক মহলের।




