কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :১৫ জানুয়ারি ২০২৬
পূর্ব ও উপ-হিমালয় অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য বড় সুখবর। সাশ্রয়ী ও দীর্ঘ দূরত্বের রেলযাত্রা আরও সহজ করতে অসম ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট ৯টি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু করতে চলেছে Indian Railways। এই নতুন ট্রেনগুলি উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলবে।
রেলমন্ত্রী Ashwini Vaishnaw সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, নতুন পরিষেবাগুলি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ, শিক্ষা ও পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াত করা লক্ষ লক্ষ মানুষের উপকারে আসবে।
রেল মন্ত্রকের বক্তব্য, অসম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ—এই তিন রাজ্য থেকে দেশের নানা প্রান্তে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিক ও দীর্ঘপথের যাত্রীর সংখ্যা বিপুল। সেই চাপ সামলাতেই অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের এই সম্প্রসারণ।

মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানান, “উৎসবের মরশুম বা কাজের চাপে যখন ট্রেনের উপরে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে, তখন এই ট্রেনগুলি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠবে।”
নতুন পরিষেবার ফলে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যোগাযোগ আরও মজবুত হবে—
-
কামাখ্যা (গুয়াহাটি) → রোহতক
-
ডিব্রুগড় → লখনউ (গোমতী নগর)
-
নিউ জলপাইগুড়ি → নাগেরকইল ও তিরুচিরাপল্লি (তামিলনাড়ু)
-
আলিপুরদুয়ার → এসএমভিটি বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ের পনভেল
-
সাঁতরাগাছি → তাম্বরম (চেন্নাই)
-
হাওড়া → আনন্দ বিহার টার্মিনাল (দিল্লি)
-
শিয়ালদহ → বারাণসী (সপ্তাহে একাধিক দিন)
এই রুটগুলির মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব, উত্তরবঙ্গ ও কলকাতা থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের বড় শহরগুলিতে সরাসরি ট্রেনযাত্রা সম্ভব হবে।
অমৃত ভারত এক্সপ্রেস মূলত নন-এসি দীর্ঘপথের ট্রেন। স্লিপার শ্রেণিকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ট্রেনগুলির ভাড়া তুলনামূলক কম।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়ে প্রতি ১,০০০ কিলোমিটারে ভাড়া প্রায় ৫০০ টাকা—যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তি।
এই ট্রেনগুলিতে থাকছে—
-
আরামদায়ক সিট ও বার্থ
-
ভাঁজ করা স্ন্যাক্স টেবিল
-
মোবাইল ও বোতল রাখার জায়গা
-
দ্রুত চার্জিং পয়েন্ট
-
আধুনিক টয়লেট (ইলেক্ট্রো-পনিউম্যাটিক ফ্লাশ)
-
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা
-
দিব্যাঙ্গ যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
-
প্যান্ট্রি কার
২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু হওয়ার পর ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রুটে ৩০টি ট্রেন চলছে। নতুন করে আরও ৯টি যুক্ত হলে এই প্রকল্পের বিস্তার আরও চোখে পড়ার মতো হবে বলে মনে করছে রেলমহল।




