কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১৬ জানুয়ারি ২০২৬
নবান্নের সামনে ৫০ জন বিজেপি বিধায়কের ধর্না কর্মসূচিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে সায় দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতের ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়া রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—রাজ্য প্রশাসনের নিরাপত্তা বলয়ের কথা মাথায় রেখেই নবান্নের সামনে ধর্না করা যাবে না। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ-এর একক বেঞ্চের নির্দেশ, বিজেপি চাইলে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত হাওড়ার মন্দিরতলায় ধর্না কর্মসূচি পালন করতে পারে।
কিন্তু এই রায় মেনে নিতে নারাজ বিজেপি। রায় প্রকাশের পরপরই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন—এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যাবে দল। শুধু তাই নয়, মন্দিরতলায় ধর্না করার একক বেঞ্চের নিদানও মানা হবে না বলে সাফ ঘোষণা করেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, “আমরা কোনও দলীয় কর্মী বা সমর্থক নিয়ে নয়—৫০ জন নির্বাচিত বিধায়ককে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ধর্নার আবেদন জানিয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও যদি নিরাপত্তার অজুহাতে নবান্ন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়, তা আমরা মেনে নেব না।” বিজেপির দাবি, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
পুলিশের তরফে আগেই নিরাপত্তার কথা তুলে আপত্তি জানানো হয়েছিল। সেই যুক্তিকেই মান্যতা দিয়েছে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ—নবান্ন একটি অতিসংবেদনশীল এলাকা, সেখানে ধর্না কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শুনানির সময় বিজেপির আইনজীবীরা রাজভবনের সামনে অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের ধর্নার প্রসঙ্গ তোলেন। তবে আদালতের পাল্টা যুক্তি ছিল স্পষ্ট—কোথাও আগে কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলেও, সেটিকে নজির করে নতুন করে বেআইনি বা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া যায় না।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার হাইকোর্ট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হবে। পাশাপাশি দলীয় স্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতিও চলবে। নবান্নের সামনে ধর্না হবে কি না—তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে উচ্চতর বেঞ্চের রায়ের উপর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধর্না ঘিরে শুধু রাজপথ নয়, আদালত চত্বরেও যে উত্তাপ বাড়ছে, তা স্পষ্ট। নিরাপত্তা বনাম প্রতিবাদের অধিকার—এই দ্বন্দ্বে শেষ কথা বলবে ডিভিশন বেঞ্চই।




