কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :১৬ জানুয়ারি ২০২৬
শনিবার মালদায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগেই কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে গোটা মালদা শহর। আকাশপথে বায়ুসেনার মহড়া, রেলস্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা, প্ল্যাটফর্ম দখলে এনএসজি ও এসপিজি—সব মিলিয়ে মালদার দৈনন্দিন ছন্দ বদলে গিয়েছে। শহরের রাস্তাঘাট থেকে স্টেশন চত্বর—সব জায়গাতেই এখন একটাই আলোচনা, ‘প্রধানমন্ত্রী আসছেন’।
প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল পুরাতন মালদা ব্লকের বাইপাস সড়ক সংলগ্ন মাধাইপুর এলাকার মাঠ। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই মাঠে মঞ্চ, ব্যারিকেড, নিরাপত্তা বলয়—সব কাজই প্রায় শেষ। দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের ঢল সামলাতে আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথ তৈরি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল—দফায় দফায় ভারতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টার নামতে দেখা গিয়েছে মালদা টাউন স্টেশন সংলগ্ন লক্ষ্মণ সেন স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাড ও সভাস্থল এলাকায়। নিরাপত্তা মহড়ায় অংশ নিচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা। সূত্রের খবর, সম্ভাব্য সব রকম পরিস্থিতি মাথায় রেখে অতিরিক্ত চার জন বায়ুসেনার হেলিকপ্টার পাইলটকে রিজ়ার্ভ হিসেবে মালদায় পাঠানো হয়েছে।
রেলস্টেশনের ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম কার্যত চলে গিয়েছে এনএসজি এবং এসপিজি-র দখলে। নিরাপত্তার কারণে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মালদা টাউন স্টেশনকে কার্যত বিমানবন্দরের আদলে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। স্টেশন চত্বরে বসানো হয়েছে বিভিন্ন ঋষি ও মনীষীদের মূর্তি, রঙিন আলোয় ঝাঁ-চকচকে রূপ পেয়েছে গোটা এলাকা। সন্ধ্যা নামলেই আলো-ছায়ার খেলায় বদলে যাচ্ছে স্টেশনের চেনা ছবি।
তবে এই সব আয়োজনের মধ্যেই সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। মালদা থেকে শিয়ালদহগামী গুরুত্বপূর্ণ গৌড় এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার থেকে ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দেওয়া হয়েছে। ফলে বয়স্ক, অসুস্থ ও মহিলা যাত্রীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে সেই প্ল্যাটফর্মে পৌঁছতে হচ্ছে। অনেকের মুখেই শোনা যাচ্ছে ক্ষোভ—“নিরাপত্তা দরকার, কিন্তু আমাদের কথাও একটু ভাবা যেত।”
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম আকর্ষণ—নতুন ট্রেনের উদ্বোধন। বৃহস্পতিবার রাতেই ‘স্লিপার বন্দে ভারত’ ট্রেন মালদা টাউন স্টেশনে পৌঁছনোর কথা। শনিবার প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ভাবে এই ট্রেনের সূচনা করবেন। পাশাপাশি আরও আটটি ট্রেনের উদ্বোধনও হওয়ার কথা রয়েছে এই স্টেশন থেকেই।
এই কর্মসূচির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার মালদায় আসছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেল ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারবেন তিনি।
একদিকে কড়া নিরাপত্তা, অন্যদিকে উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা—সব মিলিয়ে মালদা এখন নজরের কেন্দ্রে। চায়ের দোকান থেকে বাসস্ট্যান্ড—সবখানেই আলোচনার বিষয় একটাই। কেউ আশাবাদী নতুন ট্রেন ও প্রকল্প নিয়ে, কেউ আবার চিন্তিত দৈনন্দিন ভোগান্তি নিয়ে। তবে নিশ্চিত, শনিবারের সভা ঘিরে মালদার এই ব্যস্ততা ও উত্তেজনা আরও কয়েক দিন মনে থাকবে শহরবাসীর মনে।




