কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :১৬ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। বন্দে ভারত, নমো ভারত এবং অমৃত ভারত—এই তিন নতুন প্রজন্মের এক্সপ্রেস ট্রেনই আগামী দিনে ভারতীয় রেলের আধুনিক রূপের প্রতীক হয়ে উঠবে। সেই পথেই বড়সড় পদক্ষেপ হিসেবে শনি ও রবিবার রাজ্যে চারটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছে Indian Railways। একই সঙ্গে শনিবারই বাংলা দিয়েই দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের সূচনা হতে চলেছে।
এই চার রুটে ছুটবে অমৃত ভারত এক্সপ্রেস
রেলের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলায় অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চলবে—
-
নিউ জলপাইগুড়ি–নাগেরকয়েল
-
নিউ জলপাইগুড়ি–তিরুচিরাপল্লি
-
আলিপুরদুয়ার–বেঙ্গালুরু
-
আলিপুরদুয়ার–মুম্বই (পানভেল)
উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ গড়ে তুলতেই এই রুটগুলি বেছে নেওয়া হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্থনৈতিক ভাবে সাধারণ যাত্রীদের কথা মাথায় রেখেই অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের পরিকল্পনা। এই নন-এসি, দীর্ঘপথের ট্রেনে স্লিপার ক্লাসে প্রতি হাজার কিলোমিটার যাত্রার ভাড়া ৫০০ টাকারও কম রাখা হয়েছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা কিংবা জীবিকার প্রয়োজনে যাঁরা নিয়মিত দূরপাল্লার ট্রেনে যাতায়াত করেন—তাঁদের জন্য এই ট্রেন যে বড় স্বস্তি আনবে, তা বলাই বাহুল্য।
রেল সূত্রে খবর, শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলা থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্দেশে একাধিক অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করবেন। সেই তালিকায় রয়েছে বাংলার এই চারটি নতুন ট্রেনও। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু হয় দেশে। বর্তমানে সারা দেশে ৩০টি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস পরিষেবা চালু রয়েছে।
অমৃত ভারত এক্সপ্রেসে যাত্রী নিরাপত্তা ও আরামের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আধা-স্বয়ংক্রিয় কাপলার ব্যবহারে শব্দ ও ঝাঁকুনি কমবে। পুশ-পুল প্রযুক্তি ট্রেন পরিচালনাকে আরও দক্ষ করবে।
যাত্রী সুবিধার তালিকায় রয়েছে—
-
ফোল্ডেবল স্ন্যাক টেবিল
-
মোবাইল ও জলের বোতল রাখার হোল্ডার
-
মেঝেতে রেডিয়াম স্ট্রিপ
-
আরামদায়ক আসন ও উন্নত বার্থ
-
ইলেকট্রো-নিউম্যাটিক ফ্লাশিং সিস্টেম-সহ আধুনিক শৌচাগার
-
স্বয়ংক্রিয় সাবান ডিসপেনসার ও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা
-
প্রতিটি যাত্রীর জন্য দ্রুত চার্জিং পয়েন্ট
-
শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
সব মিলিয়ে, অমৃত ভারত এক্সপ্রেস শুধু একটি নতুন ট্রেন নয়—বাংলার রেলযাত্রায় এটি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। সাধারণ যাত্রীর জন্য সাশ্রয়ী ভাড়া, দীর্ঘপথে নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা—সব একসঙ্গে এনে রেল যোগাযোগে যে বড় পরিবর্তন আসছে, তা নিয়ে আশাবাদী যাত্রীরা।




