কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :২১ জানুয়ারি ২০২৬
ভোটমুখী বাংলাদেশের ক্রমশ অশান্ত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক ও সরকারি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরার পরামর্শ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, এটি সম্পূর্ণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। তবে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশন ও সহকারী হাই কমিশনগুলির কাজকর্ম স্বাভাবিক ভাবেই চলবে।
বাংলাদেশে ভারতের মূল কূটনৈতিক কেন্দ্র হল Indian High Commission, ঢাকায় অবস্থিত। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহি, সিলেট ও খুলনায় রয়েছে ভারতের চারটি সহকারী হাই কমিশন। বিদেশ মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, এই সব জায়গায় নিযুক্ত ভারতীয় কর্মীদের পরিজনদের আপাতত দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্রের বক্তব্য,“বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করেই এই সিদ্ধান্ত। এটি কেবলমাত্র কর্মীদের পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক পরিষেবা বা প্রশাসনিক কাজকর্মে কোনও রকম ছেদ পড়বে না।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। একই সঙ্গে ওই দিনই হবে ‘জুলাই সনদ’ সংক্রান্ত গণভোট। নির্বাচনী প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই একাধিক ধাপে এগোচ্ছে।
-
১২ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর: মনোনয়ন জমা
-
৩০ ডিসেম্বর–৪ জানুয়ারি: মনোনয়ন যাচাই
-
১১ জানুয়ারি পর্যন্ত: আপিল
-
১২–১৮ জানুয়ারি: আপিল যাচাই
-
২১ জানুয়ারি: চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক ঘোষণা
-
২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত: নির্বাচনী প্রচার
এই সময়েই একাধিক জায়গায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। গত মাসে ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন যুবনেতা ওসমান হাদি। তার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।
-
অপহরণের ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৭১ শতাংশ
-
ডাকাতির অভিযোগ বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ
এ ছাড়াও সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও হত্যার অভিযোগ সামনে এসেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত বছরের শেষ দিকে ঢাকায় ভারতের কূটনৈতিক দফতরের সামনে বিক্ষোভ হয়। পরিস্থিতির জেরে সাময়িক ভাবে ঢাকার ভিসা-কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি। পরে, চট্টগ্রামে ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনের দফতর লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সিলেটেও উত্তেজনার খবর মিলেছিল। সেই সময় চট্টগ্রামের ভিসা-কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয় এবং সিলেটে ভারতীয় উপদূতাবাসের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
এই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ফের একবার সতর্কতা জারি করল বিদেশ মন্ত্রক। তবে কূটনৈতিক সূত্রের স্পষ্ট বার্তা—বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক, হাই কমিশন ও সহকারী হাই কমিশনের কাজ আগের মতোই চলবে। শুধুমাত্র কর্মীদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পরামর্শ।
বাংলাদেশের ভোট যত এগোচ্ছে, ততই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে নয়াদিল্লি—এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।




