কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :০৩ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সিন্ধু জলবণ্টন নিয়ে ভারত–পাকিস্তান টানাপোড়েন এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তীব্র আকার নিল। ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিল— Court of Arbitration (হেগের সালিশি আদালত)-এর নির্দেশ তারা মানবে না এবং এই মামলায় অংশও নেবে না।
নয়াদিল্লির বক্তব্য, “অবৈধভাবে গঠিত এই আদালতের কোনও বৈধতা নেই। পাকিস্তান ইচ্ছাকৃত ভাবে আমাদের সমান্তরাল আইনি ফাঁদে ফেলতে চাইছে।”
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক Indus Waters Treaty (সিন্ধু জলচুক্তি)।
এই চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার জল ভাগাভাগি হয়।
কিন্তু সম্প্রতি পাকিস্তানের অভিযোগ— ভারতের Baglihar Dam ও Kishanganga Hydroelectric Plant প্রকল্পের ‘পন্ডেজ লগবুক’ জমা দিতে হবে।
হেগ আদালত সেই নির্দেশ দিলেও ভারত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
সরকারি সূত্রের বক্তব্য—
-
আদালত “অবৈধ”
-
ভারত এই প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দেয় না
-
কোনও নথি বা জবাব দেবে না
-
শুনানিতেও অংশ নেবে না
নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, “যখন সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন জলচুক্তি আলাদা করে চালানো যায় না।”
গত বছর পাহেলগাঁওয়ে ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি চরমে।
ভারত প্রথমবারের মতো ঘোষণা করে— সিন্ধু জলচুক্তি আপাতত ‘abeyance’ বা স্থগিত।
এটি স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে কঠোর কূটনৈতিক বার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে—
-
পাকিস্তানের ৮০–৯০% কৃষি নির্ভর সিন্ধু নদীর জলের উপর
-
বড় জলাধারগুলিতে জলস্তর প্রায় ‘ডেড স্টোরেজ’ পর্যায়ে
-
ফলে এই জলচুক্তি এখন কৌশলগত চাপের হাতিয়ার
অর্থাৎ, এটি আর শুধু প্রযুক্তিগত বিতর্ক নয়, ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
ভারতের দাবি—এই বিরোধ ‘নিউট্রাল এক্সপার্ট’ স্তরে সমাধান হওয়া উচিত।
পাকিস্তান ইচ্ছে করে সরাসরি সালিশি আদালতে গিয়ে “forum shopping” করছে।
এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়— “এটা শুধু বিদ্যুৎ প্রকল্পের হিসাব নয়, এটা ভারতের কূটনৈতিক নীতির পরীক্ষা।”
ভারতের অবস্থান এখন পরিষ্কার—মাঠের বাস্তবতা বদলালে তবেই চুক্তি কার্যকর হবে। সন্ত্রাস চললে জলচুক্তিও স্থগিত থাকবে।
ফলে দক্ষিণ এশিয়ার জল-রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হল বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।




