কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতি। কিন্তু সেই প্রস্তুতির মধ্যেই আবারও বদলালো গুরুত্বপূর্ণ তারিখ।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছিয়ে গেল আরও দু’সপ্তাহ।
আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, এবার নতুন নির্দেশিকা জারি করে নির্বাচন কমিশন জানাল— ২৮ ফেব্রুয়ারিই প্রকাশ হবে ফাইনাল ভোটার লিস্ট।
ফলে প্রশাসনিক মহল থেকে রাজনৈতিক দল— সকলের নজর এখন নতুন সূচির দিকে।
যদিও এই ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত বছর থেকেই।
-
৭ ফেব্রুয়ারি → প্রথম নির্ধারিত দিন
-
পরে পিছিয়ে → ১৪ ফেব্রুয়ারি
-
এখন নতুন দিন → ২৮ ফেব্রুয়ারি
একই প্রক্রিয়া তৃতীয়বার পিছোনোয় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে।
গত ২৮ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হয় Special Intensive Revision (SIR)।
এর আওতায়—
বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ
BLO-দের মাধ্যমে এনিউমারেশন ফর্ম বিলি
মৃত/স্থানান্তরিত ভোটার যাচাই
নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি
তথ্য সংশোধন
৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয় এই দরজায়–দরজায় যাচাই অভিযান। কিন্তু এই SIR প্রক্রিয়া ঘিরেই উঠেছে একাধিক অভিযোগ।
সাধারণ মানুষের দাবি—
হিয়ারিংয়ের নামে অযথা ডাকা
তথ্যের নামে হয়রানি
লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি দেখিয়ে নাম বাদ
যোগ্য ভোটারের নাম কাটা
এই সব অভিযোগে একাধিক মামলা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন—
২১ ফেব্রুয়ারির আগে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ সম্ভব নয়।
এবার দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হল— নতুন টাইমলাইন
১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত — হিয়ারিং
২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত — স্ক্রুটিনি
২৮ ফেব্রুয়ারি — ফাইনাল প্রকাশ
ভোটার তালিকাই গণতন্ত্রের ভিত্তি। একটি নাম বাদ মানে একজন নাগরিকের ভোটাধিকার খোয়ানো।
বিশেষজ্ঞদের মতে—
“যাচাই প্রক্রিয়া যত নিখুঁত হবে, নির্বাচন তত স্বচ্ছ হবে।”
তাই সময় নিয়ে হলেও নির্ভুল তালিকা তৈরি করাই কমিশনের লক্ষ্য বলে দাবি প্রশাসনের।
এক নজরে নাগরিকদের করণীয়
নিজের নাম ভোটার তালিকায় আছে কিনা যাচাই করুন
ভুল থাকলে দ্রুত সংশোধনের আবেদন করুন
অফিসিয়াল পোর্টাল/বিএলও-র মাধ্যমে তথ্য আপডেট করুন
তালিকা প্রকাশের দিন পিছোলেও ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহেই স্পষ্ট হবে— কারা থাকছেন তালিকায়, আর কারা বাদ!




