কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
নিজে আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের মামলায় সওয়াল— বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠলেও শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। বরং এটি সংবিধান ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থারই প্রমাণ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ভাবে আদালতে হাজিরা ও সওয়ালের বিরুদ্ধে ওঠা আপত্তি সোমবার খারিজ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
Supreme Court of India–এর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, কোনও নাগরিক নিজের মামলায় নিজে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখলে তাতে আইনি বাধা নেই। আদালত হিন্দু মহাসভার আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলে, “এতে অশ্রুত বা অস্বাভাবিক কিছু নেই। এটা সংবিধানের প্রতি বিশ্বাসেরই প্রকাশ। বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দেবেন না।”
প্রসঙ্গত, গত ৪ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা সার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সওয়াল করেন। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রবণতাই বেশি, নতুন নাম তোলার উদ্যোগ কম।
মমতা আদালতে বলেন, বহু গরিব মানুষ, বিশেষ করে মহিলা ভোটাররা অযথা তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন। বিবাহের পরে পদবি বদল হওয়ায় বহু মহিলার নাম মুছে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের বাইরে থেকে আনা মাইক্রো অবজারভাররা বুথ লেভেল অফিসারদের কাজের উপরে হস্তক্ষেপ করছেন, যা স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাঠামোকে ব্যাহত করছে। এমনকি তির্যক মন্তব্য করে তিনি নির্বাচন কমিশনকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ বলেও উল্লেখ করেন, দাবি করেন যে আনুষ্ঠানিক নির্দেশের বদলে অনানুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানানো হচ্ছে।
এই সার প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে Election Commission of India। এর আগে বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের আগে একই ধরনের সংশোধনী অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই সময়ও একাধিক সংগঠন আদালতে চ্যালেঞ্জ জানালেও শীর্ষ আদালত স্থগিতাদেশ দেয়নি। পরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে এই প্রক্রিয়া সম্প্রসারিত হয়, যার জেরে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এই সংশোধনের ফলে বিপুল সংখ্যক যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার হারাতে পারেন, যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে। তিনি পুরনো ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই নির্বাচন করার নির্দেশ চেয়েছেন এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন।
সোমবার আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, ব্যক্তিগত হাজিরা নিয়ে আপত্তিকে গুরুত্ব দিতে রাজি নয় বিচারপতিরা। বরং আদালতের মতে, কোনও সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি আদালতে এসে নিজের বক্তব্য রাখলে তা বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধারই নিদর্শন। ফলে এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই আইনি লড়াই যে আরও তাৎপর্যপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছল, তা বলাই যায়।




