কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : নয়াদিল্লি :১৫ মার্চ ২০২৬
দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আরেকটি বড় অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। রবিবার নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করল ২০২৬ সালের পাঁচ রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ সূচি। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী অসম, কেরল ও পুদুচেরিতে এক দফায় ভোটগ্রহণ হবে ৯ এপ্রিল। তামিলনাড়ুতে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে দুই দফায়—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটগণনা হবে আগামী ৪ মে।
নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, এবারের নির্বাচনী প্রক্রিয়া দেশের অন্যতম বৃহত্তম গণতান্ত্রিক মহড়া হতে চলেছে। পাঁচ রাজ্য ও পুদুচেরি মিলিয়ে মোট প্রায় ১৭.৪ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ৮২৪টি বিধানসভা কেন্দ্রজুড়ে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের মতে, এত বিপুল সংখ্যক ভোটার এবং কেন্দ্র নিয়ে এই নির্বাচন ভারতের গণতান্ত্রিক শক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট প্রায় ২ লক্ষ ১৯ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে অধিকাংশই থাকবে গ্রামীণ এলাকায়, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটাররাও সহজে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটদানের সুবিধা বাড়াতে বিভিন্ন বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মডেল ভোটকেন্দ্র, শুধুমাত্র মহিলা কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত ভোটকেন্দ্র এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের পরিচালনায় ভোটকেন্দ্র।
স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। এর ফলে ভোটগ্রহণের প্রতিটি ধাপ রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। কমিশনের দাবি, এই পদক্ষেপ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রায় ২৫ লক্ষ কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে থাকবেন ভোটকর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোট যেন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, এবারের নির্বাচনে প্রবীণ ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হতে পারে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ রাজ্য ও পুদুচেরিতে শতবর্ষ পেরিয়ে যাওয়া বহু ভোটার রয়েছেন। এছাড়াও ৮৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তাঁদের ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক স্তরেও এই নির্বাচনের ওপর নজর থাকবে। বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের এই ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কমিশনের দাবি, ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়া বিশ্বে গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
উল্লেখ্য, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির বর্তমান বিধানসভাগুলির মেয়াদ মে থেকে জুন মাসের মধ্যে শেষ হতে চলেছে। সেই কারণেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে নির্বাচন কমিশন এই ভোটের সূচি ঘোষণা করেছে। এখন রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি, আর ভোটের অপেক্ষায় দেশের কোটি কোটি ভোটার।




