কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক :কলকাতা :১৮ মার্চ ২০২৬
ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে বড়সড় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করল এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান। কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার হল কুখ্যাত মার্কিন ‘মার্সেনারি’ বা ভাড়াটে সেনা ম্যাথু অ্যারন ভ্যানডাইক। শুধু তিনি নন, তাঁর সঙ্গে আরও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আটক করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। কলকাতা, দিল্লি এবং লখনৌ বিমানবন্দরে একযোগে অভিযান চালিয়ে এই সাত বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ মার্চ কলকাতা বিমানবন্দর থেকেই প্রথম ধরা পড়ে ভ্যানডাইক। এরপর দিল্লি ও লখনৌ থেকেও ধরা হয় তাঁর সহযোগীদের। মঙ্গলবার এই অভিযানের বিস্তারিত প্রকাশ করে এনআইএ। তদন্তকারীদের দাবি, এই গ্রেপ্তারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে এক ভয়াবহ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সূত্র।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃতরা বেআইনি ভাবে ‘রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া পারমিট’ ছাড়াই উত্তর-পূর্বের মিজোরামে প্রবেশ করেছিল। সেখান থেকে তারা সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারে পৌঁছয়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, মায়ানমারের সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছিল এই দলটি। এই তথ্য সামনে আসতেই আরও উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ ওই জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির যোগাযোগ রয়েছে বলেই গোয়েন্দাদের ধারণা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হল, আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি পরিকল্পনা ছিল এই গোষ্ঠীর। ইউরোপ থেকে উন্নতমানের ড্রোন এনে মায়ানমারে প্রশিক্ষণ শিবির চালানোর ছক কষা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ছিল কী, তা নিয়ে তদন্ত চলছে, তবে গোয়েন্দাদের অনুমান—ভারতের মাটিতেই বড় কোনও নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ম্যাথু অ্যারন ভ্যানডাইক নামটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে অজানা নয়। তিনি ‘সন্স অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি ভাড়াটে যোদ্ধা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। অতীতে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে গদ্দাফির বিরুদ্ধে লড়াই, ইরাকে আইএসআইএস বিরোধী অভিযানে অংশগ্রহণ এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় সেনাকে ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। ফলে তাঁর ভারতে উপস্থিতি এবং এই ধরনের অভিযোগ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে।
গ্রেপ্তারের পর ১৬ মার্চ ধৃতদের দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বিশেষ এনআইএ আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইনে মামলা রুজু করে ১১ দিনের জন্য এনআইএ হেফাজতে পাঠিয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্র এবং সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের গভীরতা জানার চেষ্টা চালাবে তদন্তকারীরা।
এই ঘটনায় স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক স্তরের সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সরাসরি সংযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে কেন্দ্র করে কোনও বড় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা এখন তদন্তের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। গোয়েন্দা মহলের মতে, এই গ্রেপ্তার শুধু একটি অপরাধমূলক চক্র ভাঙার ঘটনা নয়, বরং সম্ভাব্য এক বড় বিপদকে আগেভাগেই রুখে দেওয়ার ইঙ্গিতও হতে পারে।




