কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক :কলকাতা :১৯মার্চ ২০২৬
গুজরাটের সুরাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের ভারাচহা এলাকার একটি জরি কারখানায় হঠাৎ আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে তা রূপ নেয় ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের মধ্যে একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি অন্তত নয় জন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারাচহার ভারত নগর গোশালা এলাকার ওই বহুতল ভবনের ভিতরেই চলত জরি তৈরির কাজ। একই সঙ্গে সেই ভবনের ছাদেই বসবাস করতেন শ্রমিকরা। ফলে আগুন লাগার পর অনেকেই বেরিয়ে আসতে পারেননি এবং ছাদে আটকে পড়েন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই কারখানায় মজুত থাকা একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হতে শুরু করলে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয় দমকল কর্মীদের। শেষপর্যন্ত ছাদের টিনের শেড কেটে ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের একে একে বাইরে বের করা হয়। এখনও পর্যন্ত ১১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে দমকল সূত্রে খবর।
উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৯ জন মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ওই কারখানায় অন্তত আটটি গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ছিল। কী কারণে এত সংখ্যক সিলিন্ডার রাখা হয়েছিল এবং নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকার মধ্যে এই ধরনের কারখানা চালানো এবং সেখানে শ্রমিকদের বসবাসের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ঘটনার পর ফের একবার শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা বিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে, সুরাটের এই দুর্ঘটনা শুধু একটি অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড়সড় ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন নজর তদন্তের দিকে—কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল এবং দায় কার, সেটাই সামনে আসার অপেক্ষা।




