কলকাতা টাইমস নিউজ :কলকাতা :২১ মার্চ ২০২৬
বিস্তারিত দেবজিৎ গাঙ্গুলীর কলমে :
বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই পূর্ণমাত্রায় প্রচারের ময়দানে নামতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় কৌশলে স্পষ্ট—উত্তরবঙ্গের দায়িত্ব নিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রচারের ভার কাঁধে তুলছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে দ্বিমুখী প্রচাররূপরেখা, যা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রবিবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মিসভার মধ্য দিয়ে শুরু হবে তাঁর প্রচারপর্ব। এই সভায় উপস্থিত থাকবেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সহ ভবানীপুর কেন্দ্রের সমস্ত কাউন্সিলাররা। দলীয় সূত্রে খবর, এই বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনে রণকৌশল নির্ধারণের পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করা হবে, তারও দিশা দিতে পারেন তৃণমূল নেত্রী।
নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটি ভবানীপুর থেকেই প্রচারের সূচনা করে এরপর উত্তরবঙ্গের দিকে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মমতার। আগামী ২৫ মার্চ কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে জনসভা করার সম্ভাবনা রয়েছে। পরের দিন চালসাতেও সভা করবেন তিনি। উত্তরবঙ্গের আসনগুলিতে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলতে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রচারের ময়দানে নামছেন প্রায় একই সময়ে। দক্ষিণবঙ্গকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রচারসূচি তৈরি করা হয়েছে। ২৪ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা থেকে শুরু হচ্ছে তাঁর জনসভা। এরপর পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর, কেশিয়াড়ি ও নারায়ণগড়—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ধারাবাহিক সভা করবেন তিনি।
এই প্রচারপর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নন্দীগ্রাম। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই কেন্দ্রে এবারও নজর কাড়ছে দুই শিবিরের লড়াই। তৃণমূল সূত্রে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খুব শীঘ্রই নন্দীগ্রামে গিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং সেখানকার সংগঠনকে আরও মজবুত করার বার্তা দেবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই প্রচারকৌশল যথেষ্ট সুপরিকল্পিত। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনভিত্তি ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংগঠনগত দক্ষতা—এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে ভোটের ময়দানে নামছে শাসক দল।
বিজেপির পক্ষ থেকে যেখানে প্রচারের মূল ভরসা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, সেখানে তৃণমূল রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে চাইছে। বিশেষ করে জেলা ভিত্তিক মাইক্রো-লেভেল প্রচারে অভিষেকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিটি কেন্দ্রের খুঁটিনাটি তথ্য বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ—এই পদ্ধতিকে কার্যত নির্বাচনী অস্ত্রে পরিণত করেছে তৃণমূল।
সব মিলিয়ে, উত্তরে মমতা ও দক্ষিণে অভিষেক—এই দ্বিমুখী প্রচাররূপরেখা বাংলার ভোট রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নজর, এই কৌশল কতটা কার্যকর হয় এবং নন্দীগ্রামের মতো হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে তার প্রতিফলন কীভাবে দেখা যায়,সেটাই এখন সময়ের সাথে দেখার ।




