কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক :কলকাতা :২১ মার্চ ২০২৬
রাজধানী দিল্লিতে এক নজিরবিহীন ঘটনার জেরে দেশজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে। দেশের অন্যতম প্রাচীন সংবাদসংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অফ ইন্ডিয়া (UNI)-র দফতর সিল করে দিল দিল্লি পুলিশ। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার সকালে রাফি মার্গে অবস্থিত UNI-র দফতরে পৌঁছয় পুলিশ। যথেষ্ট বাহিনী মোতায়েন করে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সিল করার কাজ করা হয় বলে দাবি পুলিশের। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সচিন শর্মা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুসরণ করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি ভিডিওগ্রাফ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও ধরনের অনিয়ম বা বেআইনি কাজ হয়নি।
তবে এই দাবির বিরোধিতা করেছে সংবাদসংস্থাটি এবং সাংবাদিকদের একাংশ। UNI-র অভিযোগ, এই পদক্ষেপ সরাসরি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর আঘাত। তাদের দাবি, পুলিশি অভিযানের সময় মহিলা কর্মীদের সঙ্গে অসভ্য আচরণ করা হয়েছে, এমনকি ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে। একটি ভিডিও ক্লিপেও দেখা গিয়েছে, এক মহিলা সাংবাদিককে ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে তিনি পড়ে যান—এই দৃশ্য ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মূলত জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (L&DO) আগে থেকেই UNI-কে দফতর খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সংবাদসংস্থা হাইকোর্টে আবেদন জানায়। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয় এবং জমি বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপরই পুলিশ গিয়ে দফতর সিল করে দেয়।
দফতরের সামনে টাঙানো নোটিশে জানানো হয়েছে, ২০ মার্চ হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার ওই জমির দখল নিয়েছে। অনুমতি ছাড়া কেউ সেখানে প্রবেশ বা ব্যবহার করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিপিআই সাংসদ পি সান্দোশ কুমার এই পদক্ষেপকে “অভূতপূর্ব” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যতম প্রাচীন সংবাদসংস্থার দফতর এভাবে দখল করা গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর গুরুতর আঘাত।
অন্যদিকে UNI-র তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযানের সময় কিছু পুলিশকর্মী নাকি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং আইনজীবীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
সব মিলিয়ে, একদিকে আদালতের নির্দেশ মেনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন—এই দ্বৈত অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে বিতর্ক আরও গভীর হচ্ছে। ঘটনাটি শুধু একটি আইনি প্রয়োগ নয়, বরং বৃহত্তর পরিসরে গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।




