কলকাতা টাইমস নিউজ :কলকাতা : ২৩ মার্চ ২০২৬
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভবানীপুরকে ঘিরে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্রেই এবার নজির গড়ার পরিকল্পনা শাসকদলের। শুধু জয় নয়, বিপুল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করাই এখন তৃণমূলের মূল লক্ষ্য।
রবিবার সন্ধ্যায় চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মিসভায় এই রূপরেখা স্পষ্ট করে দেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সভায় উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেখানে কর্মীদের সামনে এক সুসংগঠিত প্রচার কৌশল তুলে ধরা হয়, যার কেন্দ্রবিন্দু—ভোটের ব্যবধান আরও বাড়ানো।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—ভবানীপুরে কোনও আত্মতুষ্টির জায়গা নেই। আগের মতো শুধু আসন ধরে রাখলেই চলবে না, ব্যবধান বাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়তে হবে। তিনি ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ২০২১ সালের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ৫৮ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন, সেই ফলকেই এবার অতিক্রম করার ডাক দেওয়া হয়েছে।
এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বুথভিত্তিক কৌশলও নির্ধারণ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ভবানীপুরের প্রতিটি বুথে কর্মীদের অন্তত পাঁচটি করে অতিরিক্ত ভোট নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোট ২৩১টি বুথ জুড়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে সহজেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব।
ভবানীপুরের গুরুত্ব রাজনৈতিকভাবেও অনেক বেশি। একদিকে এটি মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব কেন্দ্র, অন্যদিকে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এই কেন্দ্রের ফলাফল প্রতীকী দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও অভিষেক সরাসরি বিরোধী প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করেই এই লড়াইকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংগ্রাম হিসেবে তুলে ধরেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আক্রমণাত্মক সুরে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন। সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং আশ্বাস দেন, যাঁদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
তবে একইসঙ্গে তিনি দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার বার্তাও দেন। তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তাই শান্ত থেকে সংগঠিত ভাবে প্রচার চালানোর নির্দেশ দেন তিনি।
এই সভায় রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলিকে সামনে তুলে ধরার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, ঘন ঘন জনসংযোগ এবং সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে সরকারের কাজের বার্তা পৌঁছে দেওয়া গেলে ভোটের ফলাফলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
‘এই বাংলা মাথা নত করবে না’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ভবানীপুরকে কলকাতার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়েছে তৃণমূল। ফলে এই কেন্দ্রকে ঘিরে যে লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং মর্যাদার লড়াইও, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, ভবানীপুরে ৬০ হাজারের ব্যবধানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে তৃণমূল স্পষ্ট বার্তা দিল—এই কেন্দ্রকে তারা তাদের শক্তির প্রদর্শনক্ষেত্র হিসেবেই দেখতে চাইছে। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে এই কৌশল কতটা সফল হয়।




