কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :২৪ মার্চ ২০২৬
বিধানসভা নির্বাচনের মুখে কলকাতায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর প্রশাসন। সম্ভাব্য অশান্তি ও হিংসা রুখতে এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেই প্রেক্ষিতেই সোমবার কলকাতার বডিগার্ড লাইন্সে কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন শহরের পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ।
প্রায় ঘণ্টাখানেক স্থায়ী এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লালবাজারের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকও। প্রশাসন সূত্রে খবর, আসন্ন ভোটের সময় যাতে কোনও ধরনের গোলমাল বা সংঘর্ষ না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। কোন এলাকায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে, কীভাবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে এবং কোথায় যৌথভাবে অভিযান চালানো প্রয়োজন—এসব বিষয় নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, ভোটকে শান্তিপূর্ণ ও হিংসামুক্ত রাখতে কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না। সেই নির্দেশ মেনেই রবিবার থেকে বিভিন্ন জেলার পুলিশ আধিকারিকরা নীচুতলার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় কলকাতাতেও এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
এ দিনের বৈঠকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কম্যান্ডান্ট ও ডেপুটি কম্যান্ডান্ট পদমর্যাদার আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যেই ভোট ঘোষণার আগেই শহরে পৌঁছে গিয়েছে একাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনী। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও বাহিনী আসার কথা রয়েছে। ফলে ভোটের আগে থেকেই শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
কলকাতা পুলিশের আওতাধীন বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়ানো এবং সম্ভাব্য দুষ্কৃতীদের বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, রুটমার্চের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা সম্ভব হচ্ছে।
শুধু ভোটের দিন নয়, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিও যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সে দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। ভোট মিটে যাওয়ার পরেও কিছুদিন শহরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কলকাতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা যে একেবারে শীর্ষস্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের এই যৌথ উদ্যোগ ভোটকে শান্তিপূর্ণ রাখার ক্ষেত্রে কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।




