কলকাতা টাইমস নিউজ :কলকাতা :২৪ মার্চ ২০২৬
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার গভীর রাতে কমিশনের ওয়েবসাইটে এই তালিকা আপলোড করা হলেও, ঠিক কতজনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং কতজন বাদ পড়েছেন—তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ফলে তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে গোটা প্রক্রিয়া।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল আগেই জানিয়েছিলেন, প্রায় ২৯ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের নথি যাচাই ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, এই নিষ্পত্তি হওয়া নামের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য অংশ বাদ পড়তে পারে। অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, প্রায় ৪০ শতাংশ নাম ডিলিশন তালিকায় চলে যেতে পারে, যদিও এই পরিসংখ্যান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সোমবার সন্ধ্যাতেই জানা গিয়েছিল যে, তালিকা শুধুমাত্র অনলাইনে প্রকাশ করা হবে। সেই মতো রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু প্রকাশের পরপরই প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়ে কমিশনের ওয়েবসাইট। অতিরিক্ত চাপের জেরে কিছু সময়ের জন্য ‘ডাউন’ হয়ে যায় সাইট। পরে রাত প্রায় বারোটার সময় তা আবার সচল হয় এবং ভোটাররা নিজেদের নাম যাচাই করতে সক্ষম হন।
প্রসঙ্গত, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় ছিল। সেই বিপুল সংখ্যক নামের পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। তারই প্রথম ধাপে ২৯ লক্ষ নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে বাকি নামগুলির নিষ্পত্তি এবং পরবর্তী তালিকা প্রকাশের দিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
নাগরিকদের জন্য কমিশন একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিও জানিয়েছে নাম যাচাইয়ের। ভোটারদের ‘সিলেক্ট রোল’ অপশনে গিয়ে ‘অ্যাজুডিকেশন সাপ্লিমেন্ট লিস্ট নম্বর ১’-এ ক্লিক করতে হবে। সেখানে নাম না থাকলে ‘ডিলিশন লিস্ট নম্বর ১’-এ খোঁজ করতে হবে। যদি কোনও ভোটারের নাম ডিলিশন তালিকায় থাকে, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেই জানিয়েছে কমিশন।
এই ক্ষেত্রে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দপ্তরে আবেদন জানিয়ে সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। অর্থাৎ, সংশোধনের সুযোগ এখনও খোলা থাকছে।
এদিকে, কত সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে তা নিয়ে স্পষ্টতা না থাকায় রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার একটি আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য জানানো হতে পারে।
সব মিলিয়ে, সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হলেও বিতর্ক থামেনি। বরং বাদ পড়া নামের সংখ্যা এবং তার প্রভাব—এই দুই প্রশ্ন এখন রাজ্যের নির্বাচনী আবহে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।




