কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :২৫ মার্চ ২০২৬
ভারতের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল মঙ্গলবার। দেশের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’র অনুমতি পাওয়া হরিশ রানা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন দিল্লির AIIMS হাসপাতালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ২৪ মার্চ বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন ‘পারসিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট’-এ। ২০১৩ সালে একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর থেকেই কার্যত অচেতন অবস্থায় জীবনযাপন করছিলেন তিনি। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার কোনও বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা ছিল না।
AIIMS-এর প্যালিয়েটিভ অনকোলজি ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন হরিশ রানা। এই ইউনিটের নেতৃত্বে ছিলেন অনকো-অ্যানাস্থেসিয়ার প্রধান ডা. (প্রফেসর) সীমা মিশ্র। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তাঁর পরিচর্যায় নিযুক্ত ছিল। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
তবে শোকের মধ্যেও মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন হরিশ রানার পরিবার। AIIMS সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর কর্নিয়া ও হার্ট ভালভ দান করা হয়েছে। এই অঙ্গদানের মাধ্যমে অন্য রোগীদের জীবন বাঁচানোর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চিকিৎসক মহল।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়। চলতি মাসের শুরুতেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রথমবারের মতো হরিশ রানার ক্ষেত্রে ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’র অনুমতি দেয়। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ জানায়, তাঁর ক্ষেত্রে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই এবং তা রোগীর সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁর ক্ষেত্রে ‘ক্লিনিক্যালি অ্যাসিস্টেড নিউট্রিশন অ্যান্ড হাইড্রেশন’ বা কৃত্রিম উপায়ে খাদ্য ও জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মৃত্যুর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’ বলতে বোঝানো হয়, এমন কোনও রোগীর ক্ষেত্রে জীবনধারণের কৃত্রিম সহায়তা প্রত্যাহার করা, যার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। এই সিদ্ধান্ত চিকিৎসা নীতিশাস্ত্র, মানবিকতা এবং আইনি কাঠামোর এক জটিল সংযোগস্থলকে সামনে আনে।
হরিশ রানার মৃত্যু তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং ভারতের আইনি ও চিকিৎসা ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনার সমাপ্তি। তাঁর জীবনসংগ্রাম এবং মৃত্যুর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে এই সংক্রান্ত বহু বিতর্ক, নীতি ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




