কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :২৫ মার্চ ২০২৬
বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে নন্দীগ্রামে। একই দিনে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের দুই হেভিওয়েট নেতা—তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির শীর্ষ নেতা তথা নন্দীগ্রামের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর সভাকে ঘিরে বুধবার কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে গোটা এলাকায়। সেই কারণেই মঙ্গলবার সকাল থেকেই নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে নন্দীগ্রামকে।
প্রশাসনের তরফে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলিতে শুরু হয়েছে কড়া নাকা চেকিং। সভাস্থলগুলিকে সম্পূর্ণভাবে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রতিটি গতিবিধির উপর রাখা হচ্ছে কড়া নজর। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে তৎপর রয়েছে, যাতে কোনওভাবেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
এই আবহে তৃণমূলের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রামের প্রার্থী পবিত্র করকে জেতানোর লক্ষ্যে বড় কর্মিসভা করতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের এসবিআই গ্রাউন্ডে সভার পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা স্থানান্তরিত করে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিরুলিয়ার ঘোলপুকুর বাজার সংলগ্ন মাঠে করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এই এলাকায় সভা করার সিদ্ধান্তই ইঙ্গিত দিচ্ছে তৃণমূলের কৌশলগত পরিকল্পনার।
সভাস্থলে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তৈরি হয়েছে বিশাল হ্যাঙার এবং ৪৮ ফুট দীর্ঘ ও ২০ ফুট চওড়া মঞ্চ। এখান থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম কেন্দ্রিক নির্বাচনী রণকৌশল ঘোষণা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামের ২৮৬টি বুথ থেকেই কর্মীরা এই সভায় যোগ দেবেন, প্রতিটি বুথ থেকে অন্তত ২০ জন করে উপস্থিত থাকার কথা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রাম-১ ব্লক তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হলেও নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে বিজেপির প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই সেই এলাকায় কর্মীদের উজ্জীবিত করতে এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে এই সভার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সভাস্থল ঘুরে দেখেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায় ও প্রার্থী পবিত্র কর। তাঁদের দাবি, গত কয়েক মাসে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি মানুষের কাছে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং ভোটে তার প্রতিফলন মিলবে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের সভাস্থল থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে রেয়াপাড়ায় বিজেপির সভা করতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বুথস্তরের কর্মীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ হবে বলে জানা গিয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, কর্মীদের উদ্দেশে ভোট পরিচালনার রূপরেখা এবং মাঠপর্যায়ের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত বার্তা দিতে পারেন তিনি।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এবারের লড়াইয়ে তারা অনেকটাই এগিয়ে। দলের সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পালের বক্তব্য, নন্দীগ্রামে বিজেপি অন্তত ৩০ হাজার ভোটে জয়লাভ করবে। তাঁর কথায়, আগের নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্রচারে এসেও ফল বদলাতে পারেননি, ফলে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাতেও তেমন প্রভাব পড়বে না।
সব মিলিয়ে, একই দিনে দুই রাজনৈতিক শিবিরের দুই শীর্ষ নেতার সভা ঘিরে নন্দীগ্রাম এখন কার্যত রাজ্যের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু। উত্তেজনা, কৌশল এবং শক্তি প্রদর্শনের এই লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকবেন, তারই প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলতে পারে বুধবারের এই দুই সভা থেকে।




