spot_img
35 C
Kolkata
Tuesday, May 19, 2026
spot_img

শ্রীক্ষেত্রের মাটির নীচে লুকিয়ে রহস্য! জগন্নাথ মন্দিরের কাছে মিলল সুড়ঙ্গ সদৃশ প্রাচীন কাঠামোর ইঙ্গিত !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :২৬মার্চ ২০২৬

ড়িশার পবিত্র শ্রীক্ষেত্র পুরী আবারও চর্চার কেন্দ্রে। জগন্নাথ মন্দির–এর আশপাশে মাটির নীচে চাপা পড়ে থাকা একাধিক প্রাচীন স্থাপত্যের সন্ধান মিলেছে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়। শুধু ধ্বংসাবশেষ নয়, ভূগর্ভে সুড়ঙ্গের মতো এক রহস্যময় কাঠামোর অস্তিত্বও উঠে এসেছে গবেষকদের রিপোর্টে, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা—এটি কি প্রাচীন গোপন পথ, না কি জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা?

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ২০২২ সালে IIT Gandhinagar পরিচালিত গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রেডার (জিপিআর) সমীক্ষার একটি খসড়া প্রতিবেদনে। ‘জগন্নাথ হেরিটেজ করিডর’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে Odisha Bridge Construction Corporation-এর উদ্যোগে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মাটির প্রায় পাঁচ মিটার গভীর পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে গবেষকেরা যে তথ্য পেয়েছেন, তা ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্দিরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ কাঠামোর উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। এই কাঠামোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ মিটার এবং প্রস্থ সর্বোচ্চ ৬ মিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কাঠামোটি এমন ভাবে বিস্তৃত যে তা মন্দিরচত্বর থেকে সমুদ্রসৈকতের দিকে প্রসারিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি কোনও প্রাচীন সুড়ঙ্গ, যা জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হত? না কি এটি ছিল সুসংগঠিত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার অংশ?

সমীক্ষায় আরও জানা গিয়েছে, এই অঞ্চলে শুধু একটি কাঠামো নয়, বরং একাধিক প্রাচীন স্থাপত্যের অস্তিত্বের ইঙ্গিত রয়েছে। গবেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই সব নির্মাণ সম্ভবত দ্বাদশ শতকের আগের বা সেই সময়ের সমসাময়িক, অর্থাৎ জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের সঙ্গে কোনও না কোনও ঐতিহাসিক যোগ থাকতে পারে। বিশেষ করে এমার মঠ, নৃসিংহ মন্দির এবং বুধি মা মন্দির সংলগ্ন এলাকায় এই ধ্বংসাবশেষের উপস্থিতি মিলেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২২ সালে হেরিটেজ করিডর প্রকল্পের কাজ চলাকালীন এমার মঠের কাছে একটি ভাঙা সিংহের ভাস্কর্য উদ্ধার করেছিল Archaeological Survey of India। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই ভাস্কর্য গঙ্গা রাজবংশের সময়কার হতে পারে। সেই আবিষ্কারের পর থেকেই এলাকায় আরও বিস্তৃত সমীক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়, যার ফলস্বরূপ এই জিপিআর সমীক্ষা।

সমীক্ষা-প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই ভূগর্ভস্থ কাঠামো শুধুমাত্র মন্দিরের আশপাশে সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোটা পুরী শহর জুড়েই এর বিস্তৃতি থাকতে পারে। এমনকি, শ্রীক্ষেত্রের মাটির নীচে একটি বৃহৎ প্রাচীন বসতির অস্তিত্বের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে খননকার্যের সময় মাটির বাসন, ধাতব সামগ্রী এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা প্রত্নবস্তু উদ্ধার হয়েছে, যা এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ অতীতের সাক্ষ্য বহন করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্নতত্ত্ববিদ জানিয়েছেন, প্রাচীনকালে এই ধরনের ভূগর্ভস্থ পথ সাধারণত দুটি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হত—একটি গোপন যাতায়াতের পথ হিসেবে এবং অন্যটি জল নিষ্কাশনের জন্য। তাঁর কথায়, পুরীর মন্দির চত্বরের আশপাশে আরও একাধিক সুড়ঙ্গের চিহ্ন অতীতে পাওয়া গিয়েছে, যা এই নতুন আবিষ্কারের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

তবে এই রহস্যের সম্পূর্ণ সমাধান এখনও হয়নি। সমীক্ষা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই কাঠামোর প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ব্যবহার নির্ধারণ করতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। আপাতত এই আবিষ্কার শ্রীক্ষেত্রের ইতিহাসকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের পথ খুলে দিচ্ছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks