কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :০২ এপ্রিল ২০২৬
ভোটের আগে আরও এক বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হলো রাজ্যে। ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের জন্য নির্ধারিত ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া আপাতত ভেস্তে যাওয়ায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। বিশেষত SIR বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের সামনে এখন কার্যত অন্ধকার ভবিষ্যৎ।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, বাদ পড়া ভোটারদের পুনরায় আবেদন ও ন্যায্যতা যাচাইয়ের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে এবং ২ এপ্রিল থেকেই সেই প্রক্রিয়া চালু হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেই ট্রাইব্যুনাল বাস্তবে চালু হচ্ছে না। সূত্রের খবর, এই নিয়ে বুধবার Election Commission of India–এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হলেও তা কোনও ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই অচলাবস্থার মূল কারণ একাধিক মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বসার কথা থাকলেও, তাঁরা কীভাবে আবেদনগুলি বিচার করবেন, কী আইনি কাঠামোয় সিদ্ধান্ত নেবেন এবং কোন প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে—এই বিষয়গুলি এখনও পরিষ্কার নয়। বারবার জানতে চাওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না মেলায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা সন্তুষ্ট হননি বলেই জানা গিয়েছে।
এর পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একাধিক ট্রাইব্যুনাল বসানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা, কর্মী ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, এই সমস্ত বিষয় স্পষ্ট না হওয়ায় বুধবারের বৈঠক কার্যত ভেস্তে যায়।
এখন প্রশ্ন উঠছে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী? সূত্রের ইঙ্গিত, বৃহস্পতিবার ফের বৈঠক হতে পারে। তবে সেই বৈঠকেও একই প্রশ্নগুলির সন্তোষজনক উত্তর না মিললে ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, IIM Calcutta–র জোকা ক্যাম্পাসে ট্রাইব্যুনাল বসার যে পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ‘ডিলিটেড’ তালিকাভুক্ত ভোটাররা। তাঁদের অনেকেই বুঝতে পারছেন না, নাম ফের তুলতে কোথায় আবেদন করবেন, বা আদৌ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না। নির্বাচনের মুখে এই অনিশ্চয়তা রাজনৈতিক মহলেও চাপ বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত সমাধান না হলে লক্ষ লক্ষ ভোটারের অধিকার প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এখন সকলের নজর পরবর্তী বৈঠকের দিকে—সেখানে কি জট কাটবে, না কি অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে, সেটাই দেখার।




