কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :০২ এপ্রিল ২০২৬
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। বুধবার মুর্শিদাবাদের নওদার ডুবতলা ময়দানে একই মঞ্চে দেখা গেল Asaduddin Owaisi এবং Humayun Kabir–কে। এই সভা কার্যত সামনে এনে দিল নবগঠিত জোটের প্রথম বড় শক্তিপ্রদর্শন, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
গত ২৫ মার্চ কবীরের নবগঠিত দল Aam Janata Unnayan Party–এর সঙ্গে AIMIM–এর জোট ঘোষণার পর এই প্রথম জনসভা। সেই মঞ্চ থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি—দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকেই তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন ওয়াইসি। নাম না করলেও তাঁর বক্তব্যের নিশানায় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee এবং প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi।
সভামঞ্চ থেকে ওয়াইসি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করলেও প্রত্যাশিত উন্নয়ন বা নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। তাঁর অভিযোগ, ভোটের সময় সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে তাদের ক্ষমতায়ন হয়নি। তাই এবার নিজেদের নেতৃত্বকে সামনে আনার ডাক দেন তিনি। তাঁর কথায়, “এবার বাংলার মানুষকেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব নিতে হবে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিজেদের শক্তি বুঝতে হবে।”
হুমায়ুন কবীরের পক্ষেও সরব হন ওয়াইসি। তিনি জানান, এই জোট কেবল ভোটের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়েই গড়ে উঠছে। শুধু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন নয়, ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনেও এই জোট সক্রিয় থাকবে বলে ঘোষণা করেন তিনি। এই ঘোষণাকে অনেকেই বাংলার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে যে অভিযোগ উঠেছে—AIMIM বাংলায় এসে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করতে চাইছে—তারও জবাব দেন ওয়াইসি। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করে। বরং তিনি ভোটারদের “ভয়ের রাজনীতি” থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং দুই বড় দলের বাইরে বিকল্প শক্তিকে সুযোগ দেওয়ার আবেদন করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট কতটা প্রভাব ফেলবে তা এখনই বলা কঠিন হলেও, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো এলাকায় এই জোট নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। এখন দেখার, এই নতুন জোট ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এবং তা আদৌ বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হয় কি না।




