কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :০২ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘ ২৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী। বুধবার দিল্লির বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে তৎক্ষণাৎ হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং তাঁকে পাঠানো হয় তিহাড় জেল–এ। আগামী ২ এপ্রিল তাঁর সাজা ঘোষণা করা হবে বলে আদালত জানিয়েছে।
মামলার সূত্রপাত ১৯৯৮ সালের ২৪ আগস্ট। সে সময় ভারতীর মা সাবিত্রী শ্যাম মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া জেলার একটি সমবায় ব্যাঙ্কে ১০ লক্ষ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেন, যেখানে সুদের হার ছিল ১৩.৫ শতাংশ এবং মেয়াদ ছিল তিন বছর। সেই সময় ওই ব্যাঙ্কের বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন রাজেন্দ্র ভারতী নিজেই। অভিযোগ, নিজের পদমর্যাদার অপব্যবহার করে তিনি প্রথমে ওই ডিপোজিটের মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে দশ বছর এবং পরে তা আরও বাড়িয়ে ১৫ বছর করেন, অথচ একই উচ্চ সুদের সুবিধা বজায় রাখেন।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই প্রক্রিয়াকে বৈধ দেখাতে ব্যাঙ্কের গুরুত্বপূর্ণ নথি—লেজার বুক, এফডি স্লিপ এবং রসিদ—জাল করা হয়েছিল। অভিযোগ, ১৯৯৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে সহ-অভিযুক্ত রঘুবীর শরদ প্রজাপতির সঙ্গে যোগসাজশ করে এই জালিয়াতি চালানো হয়। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ১.৩৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সুবিধা পাওয়া গিয়েছিল, যার ফলে ব্যাঙ্কের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়।
এই অনিয়ম প্রকাশ্যে আসে ভারতী ব্যাঙ্কের বোর্ড থেকে সরে যাওয়ার পরে, যখন একটি অডিট টিম ব্যাঙ্কের হিসাব খতিয়ে দেখে একাধিক অসঙ্গতি চিহ্নিত করে। এরপর সমবায় দফতরের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং শুরু হয় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া।
পরবর্তীতে রাজেন্দ্র ভারতী এই মামলার শুনানি মধ্যপ্রদেশে না করার আবেদন জানান। তাঁর দাবি ছিল, সেখানে তিনি ন্যায়সঙ্গত বিচার পাবেন না। বিষয়টি পৌঁছয় Supreme Court of India–এ, এবং সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি দিল্লির বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। সেই আদালতেই বুধবার এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ের পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে প্রতিক্রিয়া। মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের আইন বিভাগের প্রধান জে.পি. ধানোপিয়া জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এই রায় যে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠেছে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে। বহু বছরের পুরনো এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া প্রমাণ করে, আইনের হাত লম্বা—সময় যতই লাগুক, শেষ পর্যন্ত বিচার হয়েই থাকে।
Key Phrases:
Rajendra Bharti fraud case, MP Congress MLA conviction, Tihar Jail news, 25 year old fraud India, cooperative bank scam India
Description:
Tags:




