কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :২৪এপ্রিল ২০২৬
প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই একদিকে যেমন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে প্রশাসন, তেমনই অন্যদিকে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করল Election Commission of India। রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গড়ে প্রায় ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ইতিমধ্যেই নজিরবিহীন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাতের চূড়ান্ত হিসেব ধরলে এই হার আরও বাড়তে পারে, এবং তা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বকালীন রেকর্ড হিসেবেও চিহ্নিত হতে পারে।
এই বিপুল ভোটদানের পরেই কমিশনের মূল নজর পড়েছে ভোট-পরবর্তী ব্যবস্থাপনার উপর। বিশেষ করে বুথে ব্যবহৃত নজরদারি ক্যামেরার ডেটা সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর কোনও অবস্থাতেই বুথে বসেই ক্যামেরার SD কার্ড খোলা যাবে না। বরং ক্যামেরাগুলি খুলে সেক্টর অফিসারের তত্ত্বাবধানে সেগুলি সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে নির্দিষ্ট DCRC বা রিসিভিং সেন্টারে, সহকারী রিটার্নিং অফিসার বা ARO-র উপস্থিতিতে সেই SD কার্ড খোলা হবে। এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে যে ভিডিও তথ্য কোনওভাবেই বিকৃত বা প্রভাবিত না হয়। কমিশনের মতে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু তাই নয়, প্রতিটি বুথের ভিডিও ডেটা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে ক্যামেরা অপসারণ করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনও পোলিং পার্টি সদস্য বা বুথ লেভেল অফিসার বুথ ছেড়ে যেতে পারবেন না বলেও জানানো হয়েছে। অর্থাৎ ভোটগ্রহণ শেষ হলেও দায়িত্ব শেষ নয়—এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন।
এদিকে প্রথম দফার ভোট মিটতেই শুরু হয়ে গিয়েছে দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে ওয়েব কাস্টিং ব্যবস্থার ট্রায়াল রান। তিনটি শিফটে এই মহড়া চালানো হচ্ছে, যাতে প্রতিটি বুথে লাইভ নজরদারি ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা খতিয়ে দেখা যায়।
এই পর্যবেক্ষণে একযোগে কাজ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরাও ২৪ ঘণ্টা নজরদারির দায়িত্বে থাকছেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই গোটা প্রক্রিয়াটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে দিল্লিতে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর থেকেও। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে আরও নির্ভুল ও নির্ভেজাল করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে কমিশন।
রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে প্রথম দফার শান্তিপূর্ণ ভোট যেমন স্বস্তি দিয়েছে, তেমনই কমিশনের এই কড়া নির্দেশিকা ও প্রস্তুতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এবারের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং প্রশাসনিক দক্ষতা ও প্রযুক্তির পরীক্ষাও বটে।




